কড়া নিরাপত্তার মাঝেও ‘স্বাধীনতা চাই’ বিক্ষোভে মুখরিত কাশ্মীর, অস্বীকার ভারতের

ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়ে সেখানে হাজারো সেনা মোতায়েন, ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করার পর শুক্রবার তা ভেঙ্গে স্বাধীনতার দাবীতে বিক্ষোভ করেন হাজারো কাশ্মীরি নাগরিক। জুম্মার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রের মুখে প্রায় ১০ হাজারের মতো বিক্ষোভকারী শ্রীনগরের রাস্তায় ‘স্বাধীনতা চাই’ স্লোগান দেন। ওয়াশিংটন পোস্ট, আল-জাজিরা, রয়টার্স

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটনপোস্টকে ছয় প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, শুক্রবারের প্রার্থনার পর নারী, পুরুষ ও শিশুরা রাস্তায় নেমে ‘এই ভূমি আমাদের’, ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ স্লোগান দেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। স্থানীয় সাংবাদিক ইমরান এলাহি বলেন, ‘পুলিশের ধাওয়ায় কেউ পালিয়ে যান এবং কেউ তাদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেন। শুক্রবারের বিক্ষোভের পর রাত দুইটায় নিজের গেটে ধাক্কাধাক্কির শব্দ শুনতে পান এক নারী। তার দুই ছেলে তখনো ঘুমায় নি। পুলিশ তার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে খুঁজতে আসে। তাকে এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ার তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর নির্দেশ অমান্য করে শ্রীনগরের রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে স্লোগান দেয়। ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ এবং ‘৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করো’ ব্যানার লিখে প্রতিবাদ জানান তারা। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ও ফাঁকা গুলি চালায়। এক পুলিশ অফিসারের স্বীকারোক্তি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ১২জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাওরাতে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে আহত হন প্রায় ৩০ জন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীনগরের সাউরা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি গ্রুপ জড়ো হলে তাদের আইওয়া ব্রিজের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানেই তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও পেলেটগান চালানো হয়। তার আঘাতে জখম হন সাধারণ নাগরিকরা। তাদের শের-ই-কাশ্মীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়েও বিক্ষোভ করতে দেখা গিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, পুলিশ আমাদের উপর দু’দিক থেকেই আক্রমণ চালায়। পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন নারী ও শিশু সেতুর উপর থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানো চেষ্টা করেন।

এদিকে কাশ্মীরের শ্রীনগরে বিক্ষোভ নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যে মন্তব্য করেছে ভারত । ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেছেন, এই বিক্ষোভ ছিলো সাময়িক এবং শ্রীনগরের বাহিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। শ্রীনগরে ১০ হাজার বিক্ষোভকারীর জমায়েত হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যে। কাশ্মীরে বিক্ষিপ্তভাবে শ্রীনগরে ও বারামুলার কয়েকটি জায়গায় প্রতিবাদের ঘটনা ঘটলেও সেখানে ২০জনের বেশি জনসমাগম হয় নি।

(Visited 11 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *